Monday, January 11, 2016

ভ্রমণেররবি
শিশিরবিন্দুকে আলগোছে ধরে বেড়িয়ে পড়িসেই ছোটবেলা থেকে  বড়বেলাবাবা-মা দুজনেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক,মাইনে কম হলেও ছুটি অফুরানতাই আমাদের দুবোনের বছরে বড় দুটো বেড়ান তো থাকতোই,পাশাপাশি টুকটাক ছুটছাট-এর হঠাৎ বিস্ময়..মার আর আমার প্রথম প্রেম গান..তাই আমার  প্রায় সব ভ্রমণই আলিঙ্গন করেকোন অন্তরেররবি গান!!
    ‘আমার মনের কত রং/জানে তা কি কালিম্পং?’…সেই কালিম্পং..গ্রাহামস হোমস এর দিকে হাঁটতে হাঁটতে ঢুকে পড়েছি লেপ্রসি হাসপাতালের অন্দরে..পেলব সবুজ উপত্যকা নিশির মত ডাকল..ঘাসের উপর বসলাম..তখনোকোমল গান্ধারদেখিনি..কিন্তু ঋষি তো আরশিনগরেই বসত করে..তাইআকাশভরাকে চিনে নিতে ভুল হয়নি..প্রতিধ্বনি অচেনা দ্যুতির মত ছড়িয়ে পড়ল।
।       লোলেগাঁওফরেস্ট রেস্ট হাউস..ভোরে ওঠা অন্য কাউকে দেখব বলে..’নিঃশব্দ চরণপাতেপাঁচিল টপকে চলে এসেছি পরিত্যক্ত পেন্টহাউসের পাশে জনহীন অঙ্গনে..মা গাইলেন ধ্বনিল আহ্বান মধুর গম্ভীর প্রভাত অম্বর -মাঝে
ধ্ব
নি

রে


ধ্ব
নি

রে

কিছুক্ষণ চারজন চুপ..নৈঃশব্দ্য ভেঙে বাবা বললেন..’এই গানটাকে বিশ্বের শান্তিসঙ্গীত করা যায় না?’সবাই ভাবতে লাগল..সাদা পাহাড়ে তখন সূর্যের হোলি লেগেছে!!  
   লেপচাজগৎ..বেলা পড়তেই ছাইরঙা অন্ধকারে জঙ্গল ও বাংলো মিশে যাচ্ছে…চায়ের কাপ নিয়ে বারান্দায় এসে বসলাম…ঝরণা ও নাইটজার ডেকেই চলেছে…একটি-দুটি তারা ফুটেছে..বুনো ফুলের গন্ধে মিশে ‘হৃদয়ের    কূল ,   কূল  ,  দু কূল ভেসে যায় ‘…বাকিটা...
  দীপাবলীর কোলাখাম।.দূরে দার্জিলিঙ,লাভায় দীপরা জ্বলে উঠছে।বনে বনে ঝলমল করছে জোনাকি।আমাদের রিসর্টেও উৎসব।..নেপালী গান,ধূপের গন্ধ,লাল-হলুদ আবীর।.দিওয়ালি স্পেশাল মেনুর সুবাস।..'এল আঁধার, দিন ফুরালো,   দীপালিকায় জ্বালাও আলো,
জ্বালাও আলো, আপন আলো, জয় করো এই তামসীরে॥'   
   শৈশবের দার্জিলিং..মধ্যরাতে বাবা উঠিয়ে দিলেন..জ্যোৎস্নায় কাঞ্চনজঙ্ঘাকে দেখব বলে..সাধের 'অন্ত নাই গো নাই'...যৌবন-ভরপুর রূপালী মখমল অন্ধ করে দিচ্ছে..ওকডেনে ভোর হবে...রূপালী -সোনালী আলোর পিপাসা ও মেঘের নদী...মার ও আমার 'এদিন আজি কোন্ ঘরে গো খুলে দিল দ্বার ?'...
 মূর্তি বনানী..তখন শরৎকাল..কমপাউণ্ড থেকে বেড়িয়ে  ক্ষীণতোয়া মূর্তির ধারে এসে বসেছি..আমি আর বাবা..তখন মা নেই..জলের ওপারে গরুমারা..অগোছালো ঝোপ পেরিয়ে নিশ্ছিদ্র বন..দুপারের পাখির সমকলতান..'এপারে মুখর হল কেকা ওই....'
  লাভা..লগ হাটের উঠোনে..চেয়ারে বসে রোদ পোহাচ্ছি..আলোর আলপনা..সামনে-পিছনে আকাশ-চাওয়া ধূপীবনের আলোছায়া...একটি পথ নেমে গেছে আবছা পাহাড়ের দিকে..অন্তরে বেজে ওঠে '  কার মিলন চাও বিরহী–
         তাঁহারে কোথা খুঁজিছ ভব-অরণ্যে
         কুটিল জটিল গহনে শান্তিসুখহীন ওরে মন॥'...
  
  সুন্তালেখোলা'..পথের একটু উপরে নিঃসঙ্গ দুটি কটেজ..বিকেলবেলার নরম আলোর বারান্দা...পথ দিয়ে গরুবা ঘন্টা বাজিয়ে ঘরে ফিরছে..যোগ দিয়েছে ঝিঁঝিরাও....উদাস মেঘলা মন গেয়ে উঠল..'দিন অবসান হল/আমার আঁখি হতে অস্তরবির আলোর আড়াল তোলো..'
  জলঢাকা..বাংলোর পাশেই অবিরাম জলতরঙ্গ..পাথরে কত নকশা কাটছে জলের হিজিবিজি ধারা...দূরে ঘুম-ঘুম পাহাড়..পাতারা ভেসে বেড়াচ্ছে এলোমেলো...পাখিরা ইতিউতি..একটি বেড়ালছানা পায়েপায়ে ঘুরছে...' আকাশ বোঝে আনন্দ তার, বোঝে নিশার নীরব তারা..'
  দক্ষিণ সিকিম...টেমি চা বাগান..রিসর্টের বারান্দায়..বাগানের শ্যামলিমায় মিশছে মুক্তোর মত বৃষ্টি...চৌরাশিয়া-শিবকুমারের 'walking in the rain'শেষ ..ভিজে আমেজে সবুজের দিকে চেয়ে 'শুধু অকারণ পুলকে'.....'ওগো, নির্জনে বকুলশাখায় দোলায় কে আজি দুলিছে, দোদুল দুলিছে।'
   পশ্চিম সিকিম..কালুক..কটেজের হলের ডিভান থেকে দেখি..একঝাড় নীল-বেগুনী ধুতরো ফুল জানালার কাঁচ ভেঙে আমার কাছে আসতে চাইছে..দূরের সাদা পাহাড় আমাকে বাইরে ডাকছে..'আকাশ জুড়ে শুনিনু ওই বাজে  তোমারি নাম সকল তারার মাঝে'...চারিদিকে 'ঝরছে জগৎ ঝরনাধারার মতো..'
   উত্তর সিকিম..তিনচুলে..আদিম অরণ্যের মাঝে কেশবরণ পথ...নিশ্চল শান্তি।..শিশিরে ভিজছি।..গাছের পাতা ও মেঘ-কুয়াশার কোলাজ।..'আজ কি ঘুচিল চিহ্ন তাহার, উঠিল বনের তৃণ ॥'....
  শিমূলতলা।...লাট্টু পাহাড়ের উৎরাইতে ..আদিগন্ত ধূ-ধূ মাঠে এখানে ওখানে ছোট-বড় গাছ..নুড়ি পাথরে জলছবি।.' আমার   মন কেমন করে–
    কে জানে, কে জানে, কে জানে কাহার তরে ॥'..
   শীতের ঝাড়গ্রাম।..শাল-পিয়ালের পাতা ঝরার খেলায় আমিও সামিল।..মর্মরে জেগেছে দরবারী কানাড়া।.হাওয়ার তালে তালে পা-ও চঞ্চল।..'মম   পল্লবে পল্লবে  হিল্লোলে হিল্লোলে
                 থরথর কম্পন লাগিল রে॥'..
    ঘাটশিলার 'অপুর পথ'...ওপারেই 'আমার নতুন বাড়ি' জল-পাহাড় পেরিয়ে।...নদীই বলে দিল সেই ঠিকানা।.বলল,'যাও,একবার দেখে তো এসো'...' বুকের মাঝে বিশ্বলোকের পাবি সাড়া॥'..
    কোণারক পান্থনিবাস।..মৃদু সন্ধ্যায় ঢাকা বারান্দায় বসে...মন্দিরের রাত্রির দীপমালা আগেই নিয়ে গেছে বহু দূরের কোন জন্মে।..হঠাৎ বৃষ্টি।.নিয়নের আলো ঝাপসা হয়ে এল..সোঁদা গন্ধের অন্ত্যমিলে 'শ্যাম   -কান্তিময়ী    কোন্‌   স্বপ্নমায়া    ফিরে   বৃষ্টিজলে॥...'
   কোণারকের বালুকাবেলা।.ঝাউবন পেরিয়ে আসা..শীতের মাখন রোদে একটি কচি ডাব হাতে বসেছি ও আনমনে বালুচরে দাগ কাটছি।..চুল ওড়াচ্ছে উচ্ছল হাওয়া।.নীল আকাশ,অসীম জল ও 'আনমনা হাসির সামিল কটা গাঙচিল'....'মোর হৃদয়ের সুগন্ধ যে  বাহির হল কাহার খোঁজে,
           সকল জীবন চাহে কাহার পানে গো॥'   
  সুন্দরী রম্ভা।.চিল্কার 'শেষ গানের রেশ'...গোধূলির গেরুয়ায় জল শান্ত,স্থির।.জেলেরা ময়ূরকন্ঠী জাল গোটাচ্ছে।.দূরের দ্বীপে পাখিরা সংসার নিয়ে ব্যস্ত।.জেটির পাথরে একটি মাছরাঙা ঠায় বসে..' কত যে তুমি মনোহর মনই তাহা জানে,
    হৃদয় মম থরোথরো কাঁপে তোমার গানে॥'...
  তপ্তপানির ঝড়ের রাত..হাওয়া-জলের অধীর ঝাপটা। .শিলাইদহের 'পদ্মা' বোটের মতই..'আজি এ বরষা নিবিড়তিমির,  ঝরোঝরো জল, জীর্ণ কুটীর–
  বাদলের বায়ে প্রদীপ নিবায়ে  জেগে বসে আছি একা রে ।
  অতিথি অজানা, তব গীতসুর  লাগিতেছে কানে ভীষণমধুর–
         ভাবিতেছি মনে যাব তব সনে  অচেনা অসীম আঁধারে ॥'
  দক্ষিণ ভারত...মহাবলীপুরম...চাঁদের আলোয় ভাসছে শহর..আমরা লাইটহাউসের শিখরে...পূর্ণিমাধৌত বেলাভূমি,ঢেউয়ের দস্যিপনা..মন্দিরের ছায়াছবি।আকাশে চোখ যেতেই দেখি..চাঁদের আদরে রামধনু.... 'আমারে যে জাগতে হবে,   কী জানি সে আসবে কবে
              যদি আমায় পড়ে তাহার মনে
                   বসন্তের এই মাতাল সমীরণে॥'
 মধ্যপ্রদেশের মাণ্ডু...জাহাঙ্গীরের 'আনন্দনগর'..বাজবাহাদুর-রূপমতীর অনিমেষ বাঁশরি...মোহময়ী বরষায় সাগরতাল ভেসে গেছে..ক্ষান্তবর্ষণে আমরা জাহাজমহলের ছাদে..মা গাইলেন..'যে মিলনের মালাগুলি  ধুলায় মিশে হল ধূলি
গন্ধ তারি ভেসে আসে আজি সজল সমীরণে॥'....চকিতে জাগল শিপ্রার মৃদু ছন্দ..'অষ্টম সর্গ'....গাইড বললেন..'আপনারা বাংগালীরা গানা সচ্ প্যার করেন..আমাদের গানা শুনবেন?'..ধরলেন মিঞা -কি-মল্লার..নতুন মেঘের অঙ্কুর..নতুন করে বর্ষা নামল জাহাজমহলের বারান্দায়...আমরা ভিজতে লাগলাম...ভিজতে ভিজতেই..রোদ্দুর!!!
   পাঁচমারির শেষ সূর্যাস্ত..গাছে গাছে বিষণ্ণ কবিতা....দিন আসে,দিন যায়...অবিরত অমৃতমন্থন...' দু:খের তিমিরে যদি জ্বলে তব মঙ্গল-আলোক
                  তবে তাই হোক।'.....মানবমুকুরেও তবে তাই হোক!!!!
বিনসর..বনপথ দিয়ে নামছি..সঙ্গ দিয়েছে হনুমান-বাহিনী...অরণ্যের অজস্র ফিসফাস...পায়ে ঠেকে ঝুরোঝুরো পাতা...আদিম যুগে ফিরে চলা.....
'আমার এই    পথ-চাওয়াতেই   আনন্দ।
         খেলে যায়   রৌদ্র ছায়া,   বর্ষা আসে   বসন্ত॥'...
  কৌশানী..ভোরের ত্রিশূলকে দেখে গান্ধী-আশ্রম...সবুজ ঘাস,গাঁদাফুলের কেয়ারি পেরিয়ে প্রার্থনাগৃহে...মার অপাপবিদ্ধ মুখ দিয়ে উৎস পেল 'আনন্দধারা'...
'নিশীথশয়নে ভেবে রাখি মনে, ওগো অন্তরযামী,
       প্রভাতে প্রথম নয়ন মেলিয়া তোমারে হেরিব আমি
                 ওগো অন্তরযামী॥'...এক ঈশ্বরের শামিয়ানা....
   মুন্সিয়ারি...সকালের রোদভজা লনে....পঞ্চচুলি কোহিনূরের মত জ্বলছে...ফুলের দলে দোল লেগেছে হাওয়ার..'আজকে আমার প্রাণ ফোয়ারার সুর ছুটেছে,
                       দেহের     বাঁধ টুটেছে–
        মাথার ’পরে খুলে গেছে  আকাশের ওই সুনীল ঢাক্‌না॥'...
   বসন্ত-উৎসবের শান্তিনকতন...আমার 'শ্যামছায়া'র খোলা বারান্দায়..দোলপূর্ণিমার অথই সাগর....রূপ-অরূপের মোহনায়..
'নিবিড় অমা-তিমির হতে  বাহির হল জোয়ার-স্রোতে
    শুক্লরাতে চাঁদের তরণী।
       ভরিল ভরা অরূপ ফুলে, সাজালো ডালা অমরাকূলে
            আলোর মালা চামেলি-বরনী॥'....আরো কত ছবি মনের অনুবীক্ষণে...
    আর  বোস্টনের পরবাসে বিরহক্ষিণ্ণ মন গেয়ে বেড়ায়.. 
'হেথা কে রাখিবে দুখভয়সঙ্কটে–
           তেমন আপন কেহ নাহি এ প্রান্তরে হায় রে॥'...অকূলে বয়ে চলে ইছামতী....বানভাসি গানের উছলধারায়...'ঢেউয়ের মালা গাঁথা এক নদীর নাম'...স্মৃতিরা বাঁচে..আমি জলসেচন করে যাই...................
   
   
 

Monday, April 13, 2015

Farewell

Before I leave, It's time to say goodbye
Farewell,my friends,this is the last frontier
of madness incarnate running through my
soul.
The frontiers of love & sublime expectations.
The river in spate all set to be an example
For the world of dreams.
Farewell, my friends, for this is the last frontier
Of divine beauty running through my soul...

Behind Fairy Tales



It is the same day-
The tree sheds one or two leaves,
Like one or two tears.
In the hands of that putrid alley!!
It is the same day-
sunless,cloudless
skyless perhaps!!
Only one or two scattered
leave their arms on each other's shoulders..
It is that touch
which curves a new day,
 every new year
From the pounding heart of 21st February..
                                                     ছায়াছবির গানে রবীন্দ্রনাথ

দুই উত্তরাধিকার –কবি ও ছায়াছবি...যোগাযোগের প্রয়াসটুকু করলাম...সঙ্গে ছিল ‘যাত্রাপথের আনন্দগান’...
মহারথীদের নিয়ে

বাংলা ছায়াছবিতে রবীন্দ্রসঙ্গীতকে সবচেয়ে নিপুণভাবে ধরেছেন‍‌,যতদূর মনে হয়,তপন সিংহ।মতামত ভিন্ন হতেই পারে...কিন্ত ‘অতিথি’র বাঁশির সুরে বা কুঞ্জবনে ‘ভেঙে মোর ঘরের চাবি’..’আপনজন’এ মধ্যরাতে বিপথগামী কিছু ছেলের হাতে ক্রিকেট বল আর ‘আলো আমার আলো’..’হাটে বাজারে’র তরঙ্গে তরঙ্গে ‘ওগো নদী,আপন বেগে’...’ক্ষুধিত পাষাণ’এ ‘ক্যায়সে কাটে রজনী’ পাশে ‘তেমনি তোমার বাণী,মর্মতলে যায় হানি’বা রাত পোহালেই ‘কেন যামিনী না যেতে জাগালে না’...জতুগৃহয় শতদলের শান্তিবরণআমার যে সব দিতে হবে,সেতো আমি জানিবা শৈশবচাঞ্চল্যে ভরপুর ‘নূপুর বেজে যায় রিনিরিনি’..’’এখনিতে আড্ডাচ্ছলে ‘কেন চোখের জলে ভিজিয়ে দিলেম না’ কিংবা মহানগরের সব পথের শেষে এক খিন্ন প্রজন্মের নাই রস নাই/দারুণ দহনবেলা..আবহে ‘হে ক্ষণিকের অতিথি,এলে প্রভাতে কারে চাহিয়া..’নির্জন সৈকতে’ নিঃসঙ্গ পথিকের কানে বাজে ‘পথ দিয়ে কে যায় গো চলে’…ঝাউবনে পথের নেশার চড়ুইভাতিতে ‘দেখো দেখো শুকতারা আঁখি মেলি চায়’..তুলনারহিত!!!তবে ঋত্বিকের ‘মেঘে ঢাকা তারা’ বা ‘কোমল গান্ধার’ বা ‘যুক্তি তক্কো’তে জর্জদার গলায় যে অপূর্ব স্বর্গ বুনন হয়েছে,তার পুনর্জন্ম?না হবে না।আমারি ঘরের কোণে যেন আছড়ে পড়েছে দেবলোকের জ্যোৎস্না।কোমল গান্ধারঘাসে ঘাসেপা ফেললেন অনিলবাবুদূরে কার্শিয়াঙের পাহাড়চোখে মুখে কি অদ্ভুত বিস্ময়’!!বোলপুরের খোয়াইপারে আজ জ্যোৎস্নারাতের প্রতিফলন…’মেঘে ঢাকা তারা’-আলোআঁধারি,ভাঙা চালের ফুটোফাটা আর পৃথিবীর আয়ু-’অন্ধকারে রইনু পড়ে স্বপন মানি/ঝড় যে তোমার জয়ধ্বজা,তাই কি জানিসুবর্ণরেখায় ঝরাপাতার তালে তালে ছোট্ট সীতার আজ ধানের ক্ষেতে’..’যুক্তির বেদনার্তি-”এরা তোমায় কিছু দেবে না,দেবে না/মিথ্যা কহে শুধু কত কি ভানে”.. বা দুটি যৌবনোত্তীর্ণ নরনারীর সহসা মনে জাগে আশা’। সত্যজিতের প্রসঙ্গে আসিমনে পড়ে মণিহারায় দূর আকাশে মিলিয়ে যাওয়া বাজে করুণ সুরে’…”শাখাপ্রশাখার অরণ্যগভীরে মরি লো মরি’..’চারুলতায় বসন্তময়ফুলে ফুলে’..’আগন্তুকএ রাজপুত আর্টের সমান্তরালে জেগে ঊঠে সব শোভা, সব মাধুরী’…’গণশত্রুতে ঘনায়মান নিরাশার মাঝে এখনো গেল না আঁধার’…’ঘরে বাইরের আবহে আনন্দবসন্তসমাগমেবা দীপ্তদৃপ্ত বিধির বাঁধন’..’কাঞ্চনজঙ্ঘাএ পরবাসে রবে কের চরণরেখা…সে যেন অবিকল শরতের বৃষ্টি ..আর নৌকোর দোলে অপুর বাঁশিতে সত্যজিৎ সুর ছড়ালেন আমার সোনার বাংলা!!!

সেই সময়ের আরো কিছু ছবি
পার্থপ্রতিমেরছায়াসূর্যতে প্রথম প্রেমের মুকুল আর বৃষ্টিভেজা ডাকএসো আমার ঘরে এসো’… ছবিতেই রাঁচির বনজঙ্গলে মিশে যাওয়ামনে কি দ্বিধা রেখে গেলে চলে’..’বিভাসএর ফল্গুনদীতখন আমায় নাই বা মনে রাখলেবাএকটুকু ছোঁয়া লাগেতে শিরীষশাখার অনিমেষ বিরহ…’অগ্নীশ্বরএরতবু মনে রেখো’,’পুরানো সেই দিনের কথা’ স্মৃতিনিমগ্ন্ অগ্নীশ্বর..’কুহেলি রোমান্সপুষ্ট্তুমি রবে নীরবেবা রৌদ্রস্নিগ্ধ ভিলার ড্রয়িংরুমে ‘মেঘের কোলে রোদ হেসেছে,বাদল গেছে টুটিঅনিন্দিতা অস্তরাগেদিনের শেষে ঘুমের দেশে’…’মাল্যদান অনাড়ম্বরএই তো ভালো লেগেছিল”…’মেঘ রৌদ্রনা চাহিলে যারে পাওয়া যায়’..”পঞ্চশর মধ্যবিত্ত ঊঠোনে জর্জদার ম্যাজিকতোমরা যা বলো তাই , আমার লাগে না মনেবা পুতুলনাচ-‘মম চিত্তে’র যুগলবন্দী ;অনুষ্টুপ ছন্দচোখের আলোয় দেখেছিলেম’;’বিগলিত করুণা নবজাতক যমুনা আনন্দধারাবা গঙ্গার উৎসমুখে ‘মহাবিশ্বে মহাকাশে’..’গৃহদাহ জানলা খুলেইএদিন আজি কোন ঘরে গো’…’একদিন সূর্য’তে মোহরদির মোহময় ‘তোমার আমার এই বিরহের অন্তরালে’(ব্যবহৃত পরবর্তী কালের ‘সাঁঝবাতির রূপকথা’তেও) অথবা ‘জানি জানি কোন আদিকাল হতে’; অরুন্ধতী দেবী পরিচালিত ‘ছুটি’তে পড়ন্ত বেলায় প্রান্তরের দিকে চেয়ে অমলের ‘নাই নাই নাই যে বাকি সময় আমার’ বা দীপালিকার আলোয় অমল-ভ্রমরের ‘এই লভিনু সঙ্গ তব’..’বিকালে ভোরের ফুল’-কপালকুণ্ডলার খোঁজে হুডখেলা গাড়িতে ‘আমার সকল রসের ধারা’ বা মাঝপথে কথা ভুলে যাওয়া ‘কি গাব আমি কি শুনাব’ ..’আলো আমার আলো’তে কলোনীর হতদরিদ্র ঘরে ‘বিপদে মোরে রক্ষা করো’;’শুন বরনারী’র এক ভীরু হৃদয়ে ‘ভ্রমর’এর গুনগুন;’আরোগ্য নিকেতন’এ দুই ভিন্নধর্মী প্রজন্মের সঙ্গমে ‘জীবন যখন শুকায়ে যায়,করুণাধারায় এসো’;বিচারকএর সৌরালোকেআমার মল্লিকাবনে ‘Divine justice’এর প্রতিচ্ছবি রূপেআমার বিচার তুমি করো তব আপন করে ..’দত্তামোর বীণা উঠে কোন সুরে বাজি’;’শঙ্খবেলা শ্রাবণধারায়আজি ঝরঝর মুখর বাদরদিনে’;’লালপাথর’এ সলিল চৌধুরীর অনবদ্য সংযোজন’আলো আমার আলো’র জার্মান ন্সংস্করণ;’সন্ধ্যাদীপের শিখা’য় ডাল লেকে শিকারার ছন্দে ‘ক্ষণে ক্ষণে,মনে মনে’;সুভাষচন্দ্র’তে pantheism-এর রেশ ধরে ‘ওই আসনতলের’ বা নীরব বিস্ফোরক ‘তোমার আসন শূণ্য আজি/হে বীর, পূর্ণ করো’--’দিবারাত্রির কাব্য’।তরুণ মজুমদারভালবাসার আরেক নামতাঁর নিমন্ত্রণএর অচিনপুরেদূরে কোথায়’…’দাদার কীর্তিতে  হঠাৎ ভালো আলোয়চরণ ধরিতে দিয়ো গো আমারেবা এই করেছ ভালো…’ঠগিনী লহরীপ্রীতযৌবনসরসীনীরে”…’ভালবাসা ভালবাসা’য় ‘এবার নীরব করে দাও হে তেমার মুখর কবিরে’র সরব নৈশব্দ্য বা ‘হার মানা হার’এর নিবেদন..পথভোলাএক পথিকের চমকবাঁধিনু যে রাখী পরানে তোমার,সে রাখী খুলো না,খুলো না ফেলে আসা দিনের কিছু গ্রামোফোনযেমনআমি কান পেতে রই’(মুক্তি),’আমি ফিরব না রে’, ’কাঁদালে তুমি মোরে(বৌঠাকুরাণীর হাট),’তোমার বীণায় গান ছিল’(জীবনমরণ), ‘চাঁদের হাসি বাঁধ ভেঙেছে’(উদয়ের পথে)…এসবেই ভরে থাক সূর্যাস্তের লালিমা!!!

রবি-কিরণ বর্তমানে
দেখা গাছের পাতার সাদাকালোয়একি লাবণ্যে পূর্ণ প্রাণবা অতীত-বর্তমানের মধ্যবিন্দুতেতোমার সুর শুনায়ে’; ’আবার অরণ্যে ধূ-ধূ হেলিপ্যাড আজি মর্মরধ্বনি কেন জাগিল রে’;’আলো পদাবলীযে শাখায় ফুল ফোটেনা, ফল ধরেনা একেবারেশ্রাবণের ধারার মত পড়ুক ঝরে’…’ পারমিতার একদিন হঠাৎ এক অনাকাঙ্ক্ষিত কন্ঠে সুরঝংকারহৃদয় আমার প্রকাশ হল অনন্ত আকাশেআর মহাজাগ্রতচেতনাধারা গানহীরের আংটি আবহেশরতে আজ কোন অতিথি’… ‘‘চোখের বালিহরষগীত উচ্ছ্বসিত হেবা বিলম্বিত লয়ে প্রমোদে ঢালিয়া দিনু মনবামায়ার খেলা’-স্বদেশেরহাইব্রিডসমাপ্তি….’উৎসবঅমল ধবল পালে যা-হারিয়ে-যায় আবেশ.. ’বাড়ীওয়ালিগভীর রজনীবাতুমি কোন ভাঙনের পথে’….দ্বিতীয়টি অসাধারণ লেগেছিল তপনবাবুরঅন্তর্ধানএর শেষেও …’খেলা’র অন্তর্ভেদী ‘ছায়া ঘনাইছে বনে বনে’;’অসুখ ভাঙা বেসুরো গলায়দীপ নিবে গেছে মম’;’’দোসরএ ভাগীরথীর হাওয়ায় ভাসেআজ যেমন করে গাইছে আকাশ’;’আবহমান’এ শ্রীমতীর অভিসার ‘গহনকুসুমকুঞ্জমাঝে’;’নৌকাডুবি’র সর্বরিক্ত ‘তোমার অসীমে’;’ক্রান্তিকাল’এ শান্তির মহাকাব্যিক জয় -’বিরাজ সত্যসুন্দর’(ব্যবহৃত ‘মহাশ্বেতা’তেও)। সত্যজিৎ-পুত্র সন্দীপ রায় পরিচালিত ‘নিশিযাপন’এ একদা সুখী সংসারের ‘অদ্ভুত আঁধার’এ ‘বন্ধু রহো রহো সাথে’ বা বর্ষণস্নাত পাহাড়ের দিকে চেয়ে ‘কোথা বাইরে দূরে যায় রে উড়ে’..পূর্ণ বাণিজ্যিক ছবিশ্বেত পাথরের থালাআমার প্রাণের পরে’…আজকের ছবি ‘অবশেষে’র ‘আজি বিজন ঘরে’ বা ‘এলার চার অধ্যায়’এর ‘সুখে আমায় রাখবে কেন’ অথবা ‘ছ-এ ছুটি’র পূর্ণিমাধৌত বেলাভূমিতে ‘নিবিড় অমা তিমির হতে বাহির হল’..’চলো লেট্স গো’ র বাসজার্নির মাঝে পূর্ণচ্ছেদ ‘তরঙ্গ মিলায়ে যায়,তরঙ্গ উঠে’; ’কালবেলা’র দূরে রিকশা বিলীন হয়ে যাওয়া ও ‘শুধু যাওয়া আসা’… তালিকা চিরবহমান…..!!!
 ভুলে যাওয়া এক গান
ছবিটিকাঁচের স্বর্গ’.. মেডিক্যাল কলেজের পাকানো সিঁড়ির আলোছায়ায় বিগত দিনের ফিসফিসানি…’স্বপন দেখি,যেন তারা কার আশে/ফেরে আমার ভাঙা খাঁচার চারপাশে’……………………….
         ……..স্মৃতি পেলব, সতত সুখের, অনেকটা ছায়াছবির মতই...সুন্দরের বিবর্তনও অপ্রতিরোধ্য...তারি মাঝে ‘তোমার চরণ-ধূলায় ধূলায় ধূসর হব’...

বাকিটা...অলমিতি বিস্তরেণ!!!!!!